প্রতিবছর হবে বাংলাদেশ স্টার্টআপ সামিট

৩০ জুলাই, ২০২৩ ২১:৪১  

ভারত-বাংলাদেশ স্টার্টআপ ব্রিজিং পোর্টাল ও ভবিষ্যতের উদ্যোক্তাদের জন্য কোটি টাকার ফান্ড অব ফান্ড উদ্বোধন, দেশের শীর্ষ স্টার্টআপদের সেবা প্রদর্শন, ফিনটেক, এডটেক, হেলথটেক ও এগ্রিটেক নিয়ে দুই দিনে ৪০টি সেশন এবং ইয়্যুথ কো ল্যাব স্টার্টআপ বিজয়ীদের পুরস্কৃত করার মধ্য দিয়ে শেষ হলো বর্ণিল আয়োজনের প্রথম বাংলাদেশ স্টার্টআপ সামিট ২০২৩।

রবিবার রাতে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালের গ্র্যান্ড বলরুমে ইয়্যুথ কো-ল্যাব চ্যাম্পিয়ান পালকি মোটরস; প্রথম রানার্সআপ ড্রিম ওয়াটার এবং সেকেন্ড রানার্সআপ উই গ্রো উদ্যোক্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে, স্টার্টআপদের পুঁজি বাজারে তালিকাভূক্ত না হয়েও বিদেশী বিনিয়োগ প্রাপ্তির সুবিধা নিশ্চিত করে অতালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় দেশে নিয়ে যাওয়ার কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা।  

তিনি বলেছেন, সাধারণত বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় দেশে নিয়ে যাওয়া ও আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। আমি তাদের পরিস্কার ভাবে বলতে চাই এক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে এটাতো বৈধই। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তরা ডেভিডেন্ড ও ক্যাপিটাল গেইন সুযোগ পান।

আমি আশা করি, ফান্ড অব ফান্ডে বাংলাদেশেী কর্পোরেট ও বিদেশীরাও বিনিয়োগ করবে। এজন্য আমি আইসটি বিভাগকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাই।

তিনি আরো বলেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশ দারুণ করছে। আমি তাদের অনেকগুলো অনুষ্ঠানে গিয়ে আজ তাদের প্রকাশ্যে প্রত্যয়ন করছি। আশাকরছি, এখান থেকে ভবিষ্যতে ভালো ভালো উদ্ভাবনী উদ্যোগ বেরিয়ে আসবে। আমাদের তরুণরা যা করছে তা আশা জাগানিয়া।  

জেলা পর্যায়ে ফাইবার ক্যাবল চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, হেলথটেক, এগ্রিটেক গ্রামে বসেই গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে আগামী বছর থেকে নিয়মিত বাংলাদেশ স্টার্টআপ সামিট করা হবে বলে জানিয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া স্টার্টআপ ব্রিজ, কোটি টাকার ফান্ড অব ফান্ড এবং স্মার্ট বাংলাদেশ এক্সেলেটর উদ্বোধন কেরেছেন। এসব ঘোষণা দিয়ে তিনি স্টার্টআপদের এগিয়ে নিয়েছেন। আমাদের তরুণরা তাদের উদ্বাবনী ধারণা দিয়ে বেশ ভালো করছে। আমরা পুল অব ট্যালেন্ট তৈরিতে মনোযোগী হয়েছি। আশা করেছি, স্টার্টআপরাই স্মার্ট বাংলাদেশের মেরুদণ্ড।

অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ বাংলাদেশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহেমেদ জানিয়েছেন, প্রথম বারের মতো করা হলেও বিভিন্ন দেশ থেকে ৭২ জন বিনিয়োগকারী, ৩ হাজার উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। তারা আমাদের তরুণদের সম্ভাবনা দিয়েছেন। আশা করি আগামী বছর আরো বড় পরিসরে এই আয়োজন করা হবে।    সমাপনীতে আরো বক্তব্য রাখেন স্টার্টআপ বাংলাদেশ চেয়ারম্যান ও আইসিটি বিভাগের সচিব মোঃ সামসুল আরেফিন এবং  ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ভ্যান গুয়েন।